জামে' আত-তিরমিযী
Jami` at-Tirmidhi | মোট অধ্যায়: 49, মোট হাদিস: 3,998 টি
جامع الترمذي
সংকলক : শাইখ ইমামুল হুজ্জাহ আবু 'আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমা'ঈল বিন ইব্রাহীম বিন মুগীরাহ আল বুখারী আল-জু'ফী। মোট হাদীস সংখ্যা : 3,998 টি।
"জামে' আত-তিরমিযী" এর সকল অধ্যায়
| ক্রমিক নং | অধ্যায়ের নাম | হাদিস রেঞ্জ |
|---|---|---|
| 1 | The Book on Purification (The Book on Purification) | হাদিস রেঞ্জ: 1 - 148 |
| 2 | The Book on Salat (Prayer) (The Book on Salat (Prayer)) | হাদিস রেঞ্জ: 149 - 451 |
| 3 | The Book on Al-Witr (The Book on Al-Witr) | হাদিস রেঞ্জ: 452 - 487 |
| 4 | The Book on the Day of Friday (The Book on the Day of Friday) | হাদিস রেঞ্জ: 488 - 529 |
| 5 | The Book on the Two Eids (The Book on the Two Eids) | হাদিস রেঞ্জ: 530 - 543 |
| 6 | The Book on Traveling (The Book on Traveling) | হাদিস রেঞ্জ: 544 - 616 |
| 7 | The Book on Zakat (The Book on Zakat) | হাদিস রেঞ্জ: 617 - 681 |
| 8 | The Book on Fasting (The Book on Fasting) | হাদিস রেঞ্জ: 682 - 808 |
| 9 | The Book on Hajj (The Book on Hajj) | হাদিস রেঞ্জ: 809 - 964 |
| 10 | The Book on Jana''iz (Funerals) (The Book on Jana''iz (Funerals)) | হাদিস রেঞ্জ: 965 - 1079 |
| 11 | The Book on Marriage (The Book on Marriage) | হাদিস রেঞ্জ: 1080 - 1145 |
| 12 | The Book on Suckling (The Book on Suckling) | হাদিস রেঞ্জ: 1146 - 1174 |
| 13 | The Book on Divorce and Li'an (The Book on Divorce and Li'an) | হাদিস রেঞ্জ: 1175 - 1204 |
| 14 | The Book on Business (The Book on Business) | হাদিস রেঞ্জ: 1205 - 1321 |
| 15 | The Chapters On Judgements From The Messenger of Allah (The Chapters On Judgements From The Messenger of Allah) | হাদিস রেঞ্জ: 1322 - 1385 |
| 16 | The Book on Blood Money (The Book on Blood Money) | হাদিস রেঞ্জ: 1386 - 1422 |
| 17 | The Book on Legal Punishments (Al-Hudud) (The Book on Legal Punishments (Al-Hudud)) | হাদিস রেঞ্জ: 1423 - 1463 |
| 18 | The Book on Hunting (The Book on Hunting) | হাদিস রেঞ্জ: 1464 - 1492 |
| 19 | The Book on Sacrifices (The Book on Sacrifices) | হাদিস রেঞ্জ: 1493 - 1523 |
| 20 | The Book on Vows and Oaths (The Book on Vows and Oaths) | হাদিস রেঞ্জ: 1524 - 1547 |
| 21 | The Book on Military Expeditions (The Book on Military Expeditions) | হাদিস রেঞ্জ: 1548 - 1618 |
| 22 | The Book on Virtues of Jihad (The Book on Virtues of Jihad) | হাদিস রেঞ্জ: 1619 - 1669 |
| 23 | The Book on Jihad (The Book on Jihad) | হাদিস রেঞ্জ: 1670 - 1719 |
| 24 | The Book on Clothing (The Book on Clothing) | হাদিস রেঞ্জ: 1720 - 1787 |
| 25 | The Book on Food (The Book on Food) | হাদিস রেঞ্জ: 1788 - 1860 |
| 26 | The Book on Drinks (The Book on Drinks) | হাদিস রেঞ্জ: 1861 - 1896 |
| 27 | Chapters on Righteousness And Maintaining Good Relations With Relatives (Chapters on Righteousness And Maintaining Good Relations With Relatives) | হাদিস রেঞ্জ: 1897 - 2035 |
| 28 | Chapters on Medicine (Chapters on Medicine) | হাদিস রেঞ্জ: 2036 - 2089 |
| 29 | Chapters On Inheritance (Chapters On Inheritance) | হাদিস রেঞ্জ: 2090 - 2115 |
| 30 | Chapters On Wasaya (Wills and Testament) (Chapters On Wasaya (Wills and Testament)) | হাদিস রেঞ্জ: 2116 - 2124 |
| 31 | Chapters On Wala' And Gifts (Chapters On Wala' And Gifts) | হাদিস রেঞ্জ: 2125 - 2132 |
| 32 | Chapters On Al-Qadar (Chapters On Al-Qadar) | হাদিস রেঞ্জ: 2133 - 2298 |
| 33 | Chapters On Al-Fitan (Chapters On Al-Fitan) | হাদিস রেঞ্জ: 2158 - 2269 |
| 34 | Chapters On Dreams (Chapters On Dreams) | হাদিস রেঞ্জ: 2270 - 2294 |
| 35 | Chapters On Witnesses (Chapters On Witnesses) | হাদিস রেঞ্জ: 2295 - 2303 |
| 36 | Chapters On Zuhd (Chapters On Zuhd) | হাদিস রেঞ্জ: 2304 - 2414 |
| 37 | Chapters on the description of the Day of Judgement, Ar-Riqaq, and Al-Wara' (Chapters on the description of the Day of Judgement, Ar-Riqaq, and Al-Wara') | হাদিস রেঞ্জ: 2415 - 2522 |
| 38 | Chapters on the description of Paradise (Chapters on the description of Paradise) | হাদিস রেঞ্জ: 2523 - 2735 |
| 39 | The Book on the Description of Hellfire (The Book on the Description of Hellfire) | হাদিস রেঞ্জ: 2573 - 2795 |
| 40 | The Book on Faith (The Book on Faith) | হাদিস রেঞ্জ: 2606 - 2644 |
| 41 | Chapters on Knowledge (Chapters on Knowledge) | হাদিস রেঞ্জ: 2645 - 2687 |
| 42 | Chapters on Seeking Permission (Chapters on Seeking Permission) | হাদিস রেঞ্জ: 2688 - 2734 |
| 43 | Chapters on Manners (Chapters on Manners) | হাদিস রেঞ্জ: 2736 - 2858 |
| 44 | Chapters on Parables (Chapters on Parables) | হাদিস রেঞ্জ: 2859 - 2874 |
| 45 | Chapters on The Virtues of the Qur'an (Chapters on The Virtues of the Qur'an) | হাদিস রেঞ্জ: 2875 - 2926 |
| 46 | Chapters on Recitation (Chapters on Recitation) | হাদিস রেঞ্জ: 2927 - 2949 |
| 47 | Chapters on Tafsir (Chapters on Tafsir) | হাদিস রেঞ্জ: 2950 - 3723 |
| 48 | Chapters on Supplication (Chapters on Supplication) | হাদিস রেঞ্জ: 3370 - 3604.1 |
| 49 | Chapters on Virtues (Chapters on Virtues) | হাদিস রেঞ্জ: 3605 - 3956 |
হাদিস তালিকা
জামে' আত-তিরমিযী : 1
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পবিত্রতা ছাড়া নামায কবুল হয় না। আর হারাম উপায়ে প্রাপ্ত মালের সাদকাও কুবুল হয় না। হান্নাদ 'বিগাইরি তুহুর' এর স্থলে ইল্লা বিতুহূর’ উল্লেখ করেছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (২৭২) আবু ঈসা বলেন, এই অনুচ্ছেদে এ হাদীসটিই সবচাইতে সহীহ এবং উত্তম। এ অনুচ্ছেদে আবুল মালীহ, আবু হুরাইরা ও আনাস (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে। উসামা পুত্র আবুল মালীহ'র নাম আমির। এও বলা হয় যে, তার নাম যাইদ ইবনু উসামা ইবনু উমাইর আল-হু্যালী।
(1, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 2
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন মু'মিন অথবা মুসলিম বান্দা ওযু করে এবং মুখমণ্ডল ধোয়, তার মুখমণ্ডল হতে তার চোখের দ্বারা কৃত সকল গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। যখন সে তার দু'হাত ধোয়, তার দুহাতে কৃত সকল গুনাহ তার হাত হতে পানির সাথে অথবা পানির অবশিষ্ট বিন্দুর সাথে দূরীভূত হয়ে যায়। অতঃপর সে সকল গুনাহ হতে পবিত্র হয়ে যায়। — সহীহ। আত্তা’লীকুর রাগীব- (১/৯৫) আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মালিক সুহাইল হতে, তিনি তার পিতার সূত্রে এবং তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু সালিহ হচ্ছেন সুহাইলের পিতা। তার নাম যাকওয়ান। আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর আসল নাম নিয়ে মতবিরোধ আছে। কেউ বলেছেন, তার নাম আবদুশ শামস, আবার কেউ বলেছেন তার নাম আবদুল্লাহ ইবনু আমর। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (ইমাম বুখারী) এ ধরনের কথাই বলেছেন এবং এটাই সবচাইতে সহীহ। এ অনুচ্ছেদে উসমান, সাওবান, সুনাবিহী, আমর ইবনু আবাসা, সালমান ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীদের বর্ণিত হাদীস রয়েছে। সুনাবিহী যিনি আবু বাকর (রাঃ)-এর নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে কোন হাদীস শুনেননি। তার নাম আবদুর রাহমান ইবনু উসাইলা এবং ডাকনাম ছিল আবু আবদুল্লাহ। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দেখা করার জন্যে বের হয়েছিলেন, কিন্তু রাস্তায় থাকাকালীন সময়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা যান। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। আরেক সুনাবিহী ইবনুল আসার আল-আহমাসী নামে পরিচিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী। তার বর্ণিত হাদীস হলঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ‘পূর্ববতী উন্মাতদের নিকট আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্যের গৌরব করব। অতএব আমি মারা যাবার পর তোমরা যেন একে অপরের সাথে ফিতনা-ফ্যাসাদে জড়িয়ে না পড়’।
(2, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 3
Hasan Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পবিত্রতা নামাযের চাবি; তাকবীর তার (নামাযের বাইরের সকল হালাল কাজ) হারামকারী এবং সালাম তার (নামাযের বাইরের সকল হালাল কাজ) হালালকারী। —হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ– (২৭৫) আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি সবচাইতে সহীহ এবং উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীল অতিশয় সত্যবাদী লোক। কিন্তু কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ তার স্মরণশক্তির ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে (বুখারীকে) বলতে শুনেছি, আহমাদ ইবনু হাম্বল, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম এবং হুমাইদী (রাহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীলের হাদীসকে প্রমাণ হিসেবে নিয়েছেন। মুহাম্মাদ বলেন, তার হাদীস বলতে গেলে গ্রহণযোগ্যই। আবূ ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে জাবির এবং আবু সাঈদ (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে।
(3, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 4
Sahih Lighairihi
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতের চাবি হচ্ছে নামায, আর নামাযের চাবি হচ্ছে ওযু। হাদীসটির প্রথম অংশ যঈফ। ২য় অংশ সহীহ, পূর্বের সহীহ হাদীসের অংশ হওয়ার কারণে -মিশকাত (২৯৪)।
(4, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 5
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলত্যাগ করতে যেতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জঘন্য (পুরুষ ও স্ত্রী) জিনের (ক্ষতি) হতে আশ্রয় চাই।” শু’বা বলেন, তিনি কখনও "আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা"-এর স্থলে “আউযু বিল্লাহ" (আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই) বলতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (২৯৮), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আলী, যাইদ ইবনু আরকাম, জাবির ও ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর হাদীস রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আনাসের হাদীস সর্বাধিক সহীহ এবং সর্বোত্তম। যাইদ ইবনু আরকুম (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের সনদে অমিল রয়েছে। হিশাম দাসতোয়াঈ এবং সাঈদ ইবনু আবী আরুবাহ কাতাদাহ হতে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনু আউফ শাইবানী হতে তিনি যাইদ ইবনু আরকাম হতে। হিশাম দাসতোয়াঈ কাতাদাহ হতে তিনি যাইদ ইবনু আরকাম হতে বর্ণনা করেছেন শু’বা এবং মা'মার বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ হতে তিনি নাযার ইবনু আনাস হতে। শু'বা বলেন, যাইদ ইবনু আরকাম হতে। মামার বলেন, নাযার ইবনু আনাস হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। আবু ঈসা বলেনঃ আমি ইমাম বুখারীকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কাতাদা সম্ভবতঃ কাসিম এবং নাযার উভয়ের সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(5, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 6
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মলত্যাগ করতে যাওয়ার সময় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জঘন্য পুরুষ ও স্ত্রী জিন শাইতানের ক্ষতি হতে আশ্রয় চাই। -সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
(6, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 7
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানা হতে বের হতেন তখন বলতেনঃ (হে আল্লাহ) আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৩০০) আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আমি শুধু ইউসুফ ইবনু আবু বুরদার সূত্রে ইসরাঈলের বর্ণনার মাধ্যমেই এ হাদীস জানতে পেরেছি। আবু বুরদা ইবনু আবু মূসার নাম হল আমির ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কাইস আল-আশ'আরী। এ অনুচ্ছেদে শুধু আয়িশাহ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত এ হাদীস ব্যতীত অন্য কোন হাদীস আমরা জানি না।
(7, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 8
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন মলত্যাগ করতে যাও, তখন মলত্যাগ বা পেশাবের সময় কিবলাকে সামনে বা পেছনে রেখে বসো না, বরং পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বস। আবু আইয়ূব (রাঃ) বলেন, আমরা সিরিয়াতে এসে দেখতে পেলাম এখানকার পায়খানাগুলো কিবলার দিকে করে স্থাপিত। অতএব আমরা কিবলার দিক হতে ঘুরে যেতাম এবং আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা চাইতাম। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩১৮), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু হারিস, মাকিল ইবনু আবুল হাইসাম, আবু উমামা, আবু হুরাইরা ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবৃ আইয়ুবের হাদীসটি বেশি সহীহ এবং সর্বোত্তম। আবু আইয়ুবের নাম খালিদ ইবনু যাইদ এবং যুহরীর নাম মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু শিহাব আয-যুহরী। তার উপনাম আবু বকর , আবুল ওলীদ আল-মক্কী বলেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস শাফিঈ বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ “মলত্যাগ বা পেশাবের সময় কিবলাকে সামনে বা পেছনে রেখে বসবে না"- এ নিষেধাজ্ঞা খোলা ময়দানের জন্য। কিন্তু ঘরের মধ্যে মলত্যাগের সময় কিবলাকে সামনে রেখে বসার অনুমতি রয়েছে। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও একই রকম মত দিয়েছেন। আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেছেন, কিবলাকে পেছনে রেখে মলত্যাগ-পেশাবে বসার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি রয়েছে, কিন্তু কিবলাকে সামনে করে বসা যাবে না। তার মতে, খোলা জায়গায় অথবা ঘেরা জায়গায় কিবলাকে সামনে রেখে বসা ঠিক নয়।
(8, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 9
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলাকে সামনে রেখে মলত্যাগ বা পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। আমি তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগে তাকে কিবলার দিকে মুখ করে মলত্যাগ বা পেশাব করতে দেখেছি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩২৫)। এ অনুচ্ছেদে আবু কাতাদা, আয়িশাহ ও আম্মার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে জাবিরের হাদীসটি হাসান গারীব।
(9, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 10
Daif Isnaad
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু লাহীআ আবূ যুবাইরের সূত্রে, তিনি জাবিরের সূত্রে এবং তিনি আবূ কাতাদার সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (কাতাদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিবলার দিকে ফিরে পেশাব করতে দেখেছেন। সনদ দুর্বল কুতাইবা আমাদের কাছে এ তথ্য পরিবেশন করেছেন। ইবনু লাহীআর হাদীসের চেয়ে জাবিয়ের হাদীস অধিকতর সহীহ। হাদীস বিশারদদের মতে, ইবনু লাহীআ দুর্বল রাবী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান ও অন্যরা তাকে স্মরণশক্তিতে দুর্বল বলে সাব্যস্ত করেছেন।
(10, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 11
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি একদিন উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাঃ)-এর ঘরের ছাদে উঠি। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সিরিয়ার দিকে মুখ করে এবং কাবাকে পেছনে রেখে মলত্যাগ করতে দেখি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩২২), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।
(11, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 12
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে লোক বলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন, তার কথা তোমরা বিশ্বাস কর না। তিনি সব সময় বসেই পেশাব করতেন। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩০৭) এ অনুচ্ছেদে উমার ও বুরাইদা (রাঃ)-এর হাদীস রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আইশার হাদীস অধিকতর হাসান ও সবচাইতে সহীহ। উমারের বর্ণিত হাদীস হলঃ ১২/১। উমার (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে দেখেন। তিনি বলেনঃ হে উমার! দাঁড়িয়ে পেশাব কর না। (উমার বলেন,) তারপর আমি আর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি।" যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩০৮) সিলসিলাহ আহাদীস যঈফাহ (৯৩৪) আবূ ঈসা বলেনঃ শুধুমাত্র আব্দুল কারীম ইবনুল মুখারিক এই হাদীসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মুহাদ্দিসদের মতে যঈফ। আইয়ুব সাখতিয়ানী তাকে যঈফ বলেছেন এবং তার সমালোচনা করেছেন। অপর এক বর্ণনায় ইবনু উমার হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,-উমার (রাঃ) বলেছেন, “আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি”। এ হাদীসটি আবদুল কারীমের বর্ণিত হাদীস হতে অধিক সহীহ। এ অনুচ্ছেদে বুরাইদার হাদীস অরক্ষিত। দাঁড়িয়ে পেশাব করা নিষিদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য হল, এটা প্রচলিত নিয়ম বিরোধী, তবে হারাম নয়। “আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ তোমার দাঁড়িয়ে পেশাব করাটা একটা যুলুম ও বেয়াদবী।
(12, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 13
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সম্প্রদায়ের আবর্জনা রাখার স্থানে আসেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন। অতঃপর আমি তার জন্য পানি আনি। আমি অপেক্ষা করার জন্য একটু দূরে সরে দাঁড়াই। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমি এসে তার পায়ের সামনে দাঁড়ালাম। তিনি ওযু করলেন এবং মোজার উপর মসিহ করলেন। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩০৫)। আবু ঈসা বলেনঃ আমি জারুদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি ওয়াকী'কে এই হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি আমাশ হতে। অতঃপর ওয়াকী' বলেন, এটাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মাসিহ’র ক্ষেত্রে বর্ণিত সর্বাধিক সহীহ হাদীস। আবু আম্মার হুসাইন ইবনু হুরাইসকেও অনুরূপ কথা বলতে শুনেছি। আবু ঈসা বলেনঃ হুযাইফার সূত্রে আবু ওয়ায়েল হতে মানসূর এবং উবাইদা আযবাব্বী ও আ'মাশের বর্ণনায় অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং মুগীরা ইবনু শু’বার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবু ওয়াইলের বরাতে হাম্মাদ ইবনু সুলাইমান এবং আসিম ইবনু বুহদালাহ বর্ণনা করেছেন। হু্যাইফার সূত্রে আবু ওয়াইলের হাদীস অধিকতর সহীহ্। কিছু বিদ্বান ব্যক্তি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনুমতি দিয়েছেন। আবু ঈসা বলেনঃ উবাইদাহ ইবনু আমর আসসালমানী হতে ইবরাহীম নাখয়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। উবাইদাহ উচু স্তরের তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। উবাইদাহ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর দুই বছর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছি। উবাইদাহ ইবনু মুয়াত্তিব আযবাব্বী, তার উপনাম ‘আব্দুল করীম।
(13, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 14
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলত্যাগ করার প্রয়োজন মনে করতেন, তিনি মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত বস্ত্র তুলতেন না। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১১), সহীহাহ- (১০৭১)। আবু ঈসা বলেন, অনুরূপ একটি হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু রাবীআ-আমাশের সূত্রে আনাস (রাঃ)-এর নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। ওয়াকী’ এবং আবু ইয়াহ ইয়া আল-হিন্মানী আমাশের সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমাশ আনাসের জায়গায় ইবনু উমারের নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মলত্যাগ করতে চাইলে মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত পরিধানের বস্ত্র তুলতেন না। হাদীস দুটি মুরসাল। কেননা আমাশ- আনাস অথবা অন্য কোন সাহাবীর নিকট হতে কোন হাদীসের বর্ণনা শুনেননি, অবশ্য তিনি তাকে দেখেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, আমি তাকে নামায পড়তে দেখেছি। আমাশের নাম সুলাইমান ইবনু মিহরান, তার উপনাম আবু মুহাম্মাদ আল-কাহিলী এবং তিনি কাহিল গোত্রের মুক্ত গোলাম ছিলেন। তিনি বলেন, আমার পিতাকে ছোটবেলা মুসলিম দেশে নিয়ে আসা হয়। মাসরূক তাকে নিজের উত্তোরাধিকারী করেন।
(14, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 15
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবদুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যক্তিকে ডান হাত দিয়ে নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করতে নিষেধ করেছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩১০), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, সালমান, আবু হুরাইরা ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু কাতাদাহ আনসারী তার নাম হারিস ইবনু রিবীয়ী। বিদ্বান বা পণ্ডিত ব্যক্তিগণ ডান হাত দিয়ে শৌচ করা মাকরূহ বলেছেন।
(15, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 16
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সালমান (রাঃ)-কে বলা হল, আপনাদের নবী প্রতিটি বিষয় আপনাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন; এমনকি পায়খানা-পেশাবের শিষ্টাচারও। সালমান (রাঃ) বলেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদের কিবলামুখী হয়ে কাউকে তিনটি টিলার কম দিয়ে ইস্তিনজা করতে এবং শুকনা গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করতে নিষেধ করেছেন। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩১৬), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদ আয়িশাহ, খুযাইমা ইবনু সাবিত, জাবির ও সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, সালমান (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস হাসান সহীহ। বেশিরভাগ সাহাবা ও তাবিঈর মতে ইস্তিনজায় যদি চিলা দ্বারা সুন্দরভাবে পরিষ্কার হয়ে যায় তবে তাই যথেষ্ট, পানির দরকার নেই। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারক, ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এটাই মত।
(16, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 17
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মলত্যাগ করতে যাওয়ার সময় (আমাকে) বললেনঃ আমার জন্য তিন টুকরা পাথর নিয়ে আস। রাবী বলেন, আমি দুটি পাথরের টুকরা এবং একটি শুকনা গোবরের টুকরা নিয়ে আসলাম। তিনি পাথরের টুকরা দু’টো রাখলেন এবং গোবরের টুকরাটা ফেলে দিলেন। তিনি বললেনঃ “এটা নোংরা জিনিস”। —সহীহ। বুখারী- (১৫৬)। আবু ঈসা বলেন, কাইস ইবনু রাবী' এ হাদীসটি আবু ইসহাক হতে, তিনি আবূ উবাইদা হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে ইসরাঈল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। মা'মার এবং আম্মার ইবনু যুরাইক আবূ ইসহাক হতে, তিনি আলক্বামা হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যুহাইর আবু ইসহাক হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু আসওয়াদ হতে, তিনি নিজ পিতা আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাকারিয়া ইবনু আবু যাইদাহ আবু ইসহাকের সুত্রে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদের সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদে অমিল রয়েছে। আমর ইবনু মুররা বলেন, আমি আবু উবাদা ইবনু আব্দুল্লাহকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি 'আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে কোন হাদীস বর্ণনা করেছে? তিনি বললেন, না। আবু ঈসা বলেন আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রাহমান দারিমীকে প্রশ্ন করলাম, আবু ইসহাকের সূত্রে বর্ণিত এসব রিওয়াতের মধ্যে কোনটি সর্বাধিক সহীহ? তিনি এর কোন জবাব দিতে পারেননি। আমি এ সম্পর্কে মুহাম্মাদকে (বুখারী) প্রশ্ন করলাম। তিনিও এর কোন জবাব দেননি। আবু ইসহাকের সূত্রে যুহাইর হতে বর্ণিত হাদীসকে তিনি বেশি সহীহ বলে গ্রহণ করেছেন এবং সহীহ বুখারীতে তা সংকলন করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ আমার মতে ইসহাকের সূত্রে ইসরাঈল ও কাইস হতে বর্ণিত হাদীস সবচাইতে সহীহ। কেননা আবু ইসহাক হতে বর্ণিত হাদীসসমূহ স্মরণ রাখার ব্যাপারে ইসরাঈল অন্যদের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সুপরিচিত রাবী। তাছাড়া কাইস ইবনু রাবী’ও তার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ আমি আবু মূসা মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্নাকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনু মাহদীকে বলতে শুনেছি, আবূ ইসহাক হতে সুফিয়ানের যে সমস্ত হাদীসের ক্ষেত্রে আমি ইসরাঈলের উপর নির্ভর করেছি সেক্ষেত্রে আমি অনেক হাদীস হারিয়ে ফেলেছি। কেননা সুফিয়ানের বর্ণনা অধিক পরিপূর্ণ। আবু ঈসা বলেনঃ আবু ইসহাকের সূত্রে যুহাইরের বর্ণনা খুব বেশি শক্তিশালী নয়। কেননা তিনি তার নিকট শেষ বয়সে হাদীস শুনেছেন। ইবনু হাম্বল বলেন, তুমি যদি যায়িদা ও যুহাইরের নিকট হাদীস শুনে থাক তাহলে অন্যের নিকট তা শুনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তুমি যদি যুহাইরকে আবূ ইসহাকের হাদীস বর্ণনা করতে শুন তাহলে তা অন্যের নিকট জিজ্ঞেস করে নিও। আবু ইসহাকের নাম 'আমর ইবনু আবদিল্লাহ সাবিয়ী হামদানী। আবু উবাইদা ইবনু আবদিল্লাহ ইবনি মাসউদ তার পিতার নিকটে কোন হাদীস শুনেননি। তার আসল নামও জানা যায়নি।
(17, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 18
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শুকনা গোবর দিয়ে আর হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করবে না। কেননা এগুলো তোমাদের ভাই জিনদের খাদ্য। —সহীহ। আল-ইরওয়া— (৪৬), মিশকাত(৩৫০), যঈফাহ– (১০৩৮) এর অধীনে। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, সালমান, জাবির ও ইবনু উমার (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম ও অন্যরা দাউদ ইবনু আবী হিনদের সূত্রে, তিনি শাবী হতে, তিনি আলকামা হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবদুল্লাহ) জ্বিনদের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। শা'বী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা শুকনা গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তিনজা কর না। কেননা এটা তোমাদের ভাই জিনদের খাদ্য।” হাফস ইবনু গিয়াসের বর্ণনা হতে ইসমাঈলের বর্ণনা বেশি সহীহ। এ হাদীসের উপরই মনীষীরা আমল করেন (গোবর ও হাড় দিয়ে শৌচ করেন না)। এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ইবনু উমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
(18, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 19
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি (মহিলাদের) বললেন, তোমরা তোমাদের স্বামীদের পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার নির্দেশ দাও। আমি (স্ত্রীলোক হিসাবে) তাদের (এ নির্দেশ দিতে) লজ্জাবোধ করছি। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও পানি দিয়ে ইস্তিনজা করতেন। -সহীহ। ইরওয়া- (৪২)। এ অনুচ্ছেদে জারীর ইবনু আবদিল্লাহ আল-বাজালী, আনাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মনীষীগণ এ হাদীসের উপরই আমল করেন। তারা পানি দিয়ে ইস্তিনজা করা পছন্দ করেন, যদিও তাদের মতে চিলা দ্বারা ইস্তিনজা করলেই যথেষ্ট। তারা সবাই পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা উত্তম বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বল ও ইসহাক এ মতই সঠিক মনে করেন।
(19, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)
জামে' আত-তিরমিযী : 20
Sahih
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
। মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মলত্যাগের প্রয়োজন হলে তিনি অনেক দূরে চলে গেলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৩০১)। এ অনুচ্ছেদে আবদুর রাহমান ইবনু আবী কুরাদ, আবু ক্বাতাদা, জাবির, উবাইদ, আবু মূসা, ইবনু আব্বাস ও বিলাল ইবনুল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আরো বর্ণিত আছেঃ তিনি সফরে থাকার সময় যেমন আশ্রয়স্থল খুঁজতেন তেমনি পেশাবের জন্য নরম জায়গা খুঁজতেন। আবূ সালামার নাম আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দর রহমান ইবনি আউফ আয্-যুহরী।
(20, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)